• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
⚡শিরোনামঃ
ত্রিকালদর্শী রাজনীতিবিদ শতাব্দীর মহীরূহ তারু মিয়া’র ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে কোটবাড়ি-বাখরাবাদ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ টমছমব্রিজ জামে মসজিদ স্থানান্তর টমছমব্রিজের ইউ-টার্ন সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর মফিজাবাদ কলোনি পরিদর্শন করেন প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু কুমিল্লায় অপপ্রচার ওশিষ্টাচারবহির্ভূ রাজনীতির বিরুদ্ধে যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল ১৯ মে ‘শিলচর ”ভাষা শহীদ দিবস” বিএনপি যে ওয়াদা দেয়, তা পূরণ করে। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। কুমিল্লা বরুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ কুমিল্লায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা কুমিল্লা নামে বিভাগের ঘোষণা কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি কুমিল্লায় ছাতিপট্টি মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস – কুমিল্লায় কাবাডি চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন দল

১৯ মে ‘শিলচর ”ভাষা শহীদ দিবস”

অপরাধ সংবাদ২৪ ডেস্ক: / ৩৮৬ বার দেখা হয়েছে।
আপডেট: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

দেলোয়ার হোসেন জাকির : আজ ১৯ মে ‘শিলচর ”ভাষা শহীদ দিবস” ।  ১৯৬১ সালের ১৯ মে ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে সংঘটিত এক ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা হলো “শিলচর ভাষা আন্দোলন”। অসমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানরত ১১ জন বাঙালি পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
১৯৬০ সালে আসাম সরকার অসমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একটি বিল আনে। কিন্তু বরাক উপত্যকার (শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি) প্রধান ভাষা ছিল বাংলা এবং সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাংলাভাষী ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বরাকের বাঙালিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে ‘নিখিল আসাম বাংলা ভাষাভাষী সমিতি’ ও ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গড়ে তোলেন।

১৯৬১ সালের ১৯ মে বাংলা ভাষাকে অন্যতম সরকারি ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৬১ সালের ১৯ মে বরাক উপত্যকায় সর্বাত্মক হরতাল ও পিকেটিং ডাকা হয়। শিলচরের তারাপুর রেলওয়ে স্টেশনে (অধুনা ভাষা শহিদ স্টেশন) আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। বেলা আড়াইটার দিকে কোনো উস্কানি ছাড়াই আসাম রাইফেলস, সিআরপিএফ ও পুলিশ বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও নির্বিচারে গুলি চালায়।ভাষা শহীদপুলিশের এই বর্বরোচিত হামলায় ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে মোট ১১ জন ভাষাসৈনিক শহীদ হন, কানাইলাল নিয়োগী, চণ্ডীচরণ, সূত্রধর, হীতেশ বিশ্বাস, সত্যেন্দ্র দেব, কুমুদরঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, তরণী, দেবনাথ, শচীন্দ্র চন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, সুকমল পুরকায়স্থ ও কমলা ভট্টাচার্য (যিনি এই আন্দোলনের একমাত্র নারী শহীদ)
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো বরাক উপত্যকায় তীব্র জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর হস্তক্ষেপে আসাম সরকার তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। বরাক উপত্যকার তিনটি জেলায় (কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি) বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা প্রদান করা হয়।

শিলচরের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় এক বিরল ঘটনা, যেখানে মাতৃভাষার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো বাঙালিরা রক্ত ঝরায়। নিহতদের স্মরণে ও সম্মানে শিলচরের তারাপুর রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ভাষা শহিদ স্টেশন এবং প্রতি বছর ১৯ মে তারিখটিকে ”ভাষা শহীদ দিবস” বা ”শিলচর ভাষা দিবস” হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয়।


এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ