দেলোয়ার হোসেন জাকির : হাজী তারু মিয়া (আবদুল জাব্বার ওরফে মো: তারু মিয়া )। এই প্রজন্ম কি এই নামটি ভুলতে বসেছে? কুমিল্লা কোনোদিনও ভুলতে পারবে না তাঁর নাম। কারণ তিনি ছিলেন কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম মুসলমান চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, মানবিক জনদরদী সমাজসেবক।
ত্রিকালদর্শী রাজনীতিবিদ তারু মিয়া’র আজ ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী । ১৯৮৬ সালের ২৯ জুলই জীবনাবসান হয় এই বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদের । চেয়ারম্যান হাজী আবদুল জাব্বার ওরফে মো: তারু মিয়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৮৭ সালে। প্রায় একশত বছর বেঁচে ছিলেন তিনি ।
হাজী তারু মিয়ার জীবন ছিল এক বর্ণাঢ্য জীবন। ১৯৩০ সালে তিনি প্রথম কুমিল্লা পৌরসভার ‘সি’ ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে কমিশনারদের ভোটে ১৮ জন ওয়ার্ড সদস্যের মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়ে প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি পৌর কমিশনার থাকাকালীন বৃটিশবিরোধী রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন । এ কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন । ১৯৩২ সালের দিকে কলকাতার দমদম জেলে কারাবাস করেন তিনি। আজকের দিনে এমন দেশপ্রেমিকের নাম আমরা প্রায় ভুলতেই যেন বসেছি ।
কুমিল্লাকে যে বলা হয় শিক্ষা সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লা, এর পেছনে যাদের অবদান রয়েছে, ওই তালিকায় হাজী তারু মিয়াদের অবদানও কম নয়। কুমিল্লার শিক্ষা সংস্কৃতিকে প্রাণবন্ত রাখতে হাজী তারু মিয়াদের অবদান ইতিহাসের অংশ । একদা এই তারু মিয়াদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো কুমিল্লা, আজকের সময়ে ভাবা কি যায় তাদের কী পরিমাণ দেশপ্রেম ছিল?
১৯৩৭ সালে হাজী তারু মিয়া পুনরায় পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন এবং বিপুল ভোটে প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন। পরে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি সেই পদে দায়িত্ব পালন থেকে ইস্তফা দেন। কিন্তু ১৯৪৬ সালে তিনি তৃতীয় ও শেষবারের মতো কমিশনারদের ভোটে পুনরায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রতি মানুষের ছিল অগাধ ভালোবাসা। মানুষ তাঁকে সৎ ও দেশপ্রেমিকরূপে জানতেন এবং তিনি আমরণ সেই ভালোবাসার সম্মান রক্ষা করেছিলেন।
হাজী তারু মিয়া চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের ঘটনা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইতিহাসের অংশ। তাঁর স্মৃতিসমূহ ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব সংরক্ষণও জরুরি। কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ের হাজী তারু মিয়া ম্যানশন ও বাদুরতলার হাজী তারু মিয়া বাণিজ্যিক ভবন এককালে হাজী তারু মিয়াকে যেভাবে প্রতিনিধিত্ব করতো, এখন কালের পরিক্রমায় তা যেন ম্লান হয়ে পড়েছে। তাই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নতুন কিছু করা প্রয়োজন। পুরনো স্থাপনাগুলোও এই নামে নবায়ন জরুরি হয়েছে।
এই যে কুমিল্লা নাটক, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়ার নগরীতে পরিণত হয়েছিল, এর পেছনে অনেক মনীষীরই অবদান ছিল। হাজী তারু মিয়াদের অবদান অস্বীকার করে এই শহরের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া বা রাজনীতির ইতিহাস লেখা যাবে না। হাজী তারু মিয়া ব্যাডমিনটন টুর্নামেন্ট ১৯৯১ সালে কুমিল্লা ও ক্রীড়াঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছিল। ওই উপলক্ষে তখন প্রকাশিত হয়েছিল স্যুভেনির। কুমিল্লা শহরের মোগলটুলিতে নাটক-সাহিত্য-ক্রীড়া ও রাজনীতির যে ষাট ও সত্তরের দশকে জোয়ার এসেছিল, এর উৎস সন্ধান করতে গেলেও দেখা যাবে ওখানে রয়েছে হাজী তারু মিয়াদের মতো মহান মানুষদের ব্যাপক অবদান।
বৃটিশ আমলের শেষ দিকে শহরের মোগলটুলীর চৌমুহনীতে “সাহানা টকিজ” নামে একটি সিনেমা হল ছিল। পরে সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কুমিল্লা পৌরসভার সাবেক প্রধম মুসলীম চেয়ারম্যান হাজি তারু মিয়া নিজ পুত্রের নামে ‘কামাল বোর্ডিং’ চালু করেন, বর্তমানে এখানে রয়েছে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। কুমিল্লা শহরের মোগলটুলিতে যেমন রয়েছে সপ্তদশ শতকের ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনা’ ‘শাহ সুজা মসজিদ’ তেমনি অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তির জন্ম হয়েছে এই মোগলটুলিতেই। মুক্তিযুদ্ধ, ক্রীড়া, সাংবাদিকতা সহ নানা ক্ষেত্রে।
ক্রীড়া-সাংবাদিকতা ও রাজনীতিতে মোগলটুলী সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এই মোগটুলীর কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমিল্লা পৌরসভার সাবেক প্রধম মুসলীম চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ তারু মিয়ার পুত্র আনসার আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম ও তাঁর অপর দুই ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম মিন্টু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান ফরিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ঝিল্লুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবদুল্লাহ পিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈমুল হক ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী দৌলত আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু (মুক্তি আবু), বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা আলী নূর, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা যতিন চন্দ্র রায়, শহীদ গফুর মিঞা, শহীদ এম এ বারী মিন্টু প্রমুখ।
আবদুল জব্বার ওরফে তারু মিয়ার জন্ম বর্তমানে প্রকাশ্যে মোগলটুলি গাংচরের এক ধর্মভীরু মুসলমান পরিবারে ১১ই আশ্বিন ১২৯৩ বাংলা, ঐক্যমতে ইংরেজী ১৮৮৭, ৩০শে এপ্রিল কুমিল্লার ওই কৃতি সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। প্রায় ৯৯ বছর ৪ মাসের (১ শতাব্দী) কর্মময় ও বৈচিত্রপূর্ণ জীবন শেষে মঙ্গলবার ১২ শ্রাবণ ১৩৯৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জুলাই ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ, ঐতিহ্যবাহী মোগলটুলীর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (জন্ম সাল- সূত্র: ৫-১-১৯২৯, ত্রিপুরার মহারাজ বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর এর সহিত নিজ দলিল হতে সংকলিত)।
তারু মিয়া কংগ্রেস নেতা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরীর সাথে ১৯২৪ সালে কংগ্রেসে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালে হাজী তারু মিয়া কুমিল্লা পৌরসভার ‘সি’ ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। কমিশনার থাকাকালীনই রাজনৈতিক কারণে বৃটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে কারাবরণ করেন। ১৯৩২ সাল নাগাদ কলকাতার দমদম জেলে কারাবাস করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি পুনরায় তৃতীয়বার এবং শেষবারের জন্য অধিকাংশ কমিশনারের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সে বছরই তিনি হজ্বব্রত পালন করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি পুনরায় রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দী হন এবং ৬৮ দিনের কারাবন্দী থাকাকালীন সময়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হলে অধিকাংশ কমিশনারের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
কালের সাক্ষী হাজী তারু মিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের ঘটনা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। হাজী তারু মিয়ার সুযোগ্য পুত্র আনসার আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালে। তিনি মারা যান ২০১৪ সালে। তিনি জেনারেল এরশাদের শাসনামলে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৮৬, ১৯৮৭ সালে কুমিল্লা সদর আসনে দুইবার সাংসদ নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সালে কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নয় মাস দায়িত্ব পালন করেন। হাজী তারু মিয়ার প্রোপৌত্র সফিকুল ইসলাম শিকদার আশির দশকে ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। আগুন ঝরা বক্তা সফিক শিকদার ২০২৪ সালে ইন্তেকাল করেন। মোগলটুলীর বিখ্যাত ফারুকী হাউজের প্রতিষ্ঠাতা কাজী গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকী জন্মেছিলেন ১৮৯০ সালে এবং মারা যান ১৯৮৪ সালে। তিনিও কুমিল্লা পৌরসভার কমিশনার থেকে বাংলার মন্ত্রী হয়েছিলেন। বৃটিশ সরকার তাঁকে খান বাহাদুর, নওয়াব ও স্যার উপাধিতে ভূষিত করেন ।
১৯৩৭ সালে কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ‘ফারুকী হাউজে’ তাঁর আতিথ্য গ্রহণ করেন। কিন্তু হাজী তারু মিয়া ছিলেন বৃটিশভারতের স্বাধীনতার পক্ষের একজন মানুষ । তবু এই দুজন মানুষের মধ্যে যোগাযোগও ছিল। কিন্তু হাজী তারু মিয়া ছিলেন এই মাটিতেই গড়া মানুষ। তাই এই অঞ্চলের জন্য তিনি আজীবন রাজনীতি করে গেছেন। এই অঞ্চলও তাঁকে মনে রাখবে যুগের পর যুগ ধরে।
বৃটিশ ভারতের শেষের দিকের একটি সময়ে কুমিল্লায় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ছিলেন অখিলচন্দ্র দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এই আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর স্নেহধন্য কর্মী হিসেবে তখনকার অসংখ্য সভা-সমাবেশে যোগদান করেন হাজী তারু মিয়া। ১৯২৩ সালে কুমিল্লায় অভয় আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সাথে যুক্ত ছিলেন অখিলচন্দ্র দত্ত, ইন্দুভূষণ দত্ত, নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত, আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, হাবীবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। তাদের সান্নিধ্যের সময়ে বেড়ে ওঠে তিনি নিজের জীবনকেও নিয়োজিত করেন মহান দেশপ্রেমের আন্দোলনে। ওসব আন্দোলনে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে প্রায় সর্বকাজেই নিয়োজিত রেখেছিলেন হাজী তারু মিয়া। তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল আইনসভার সদস্য, অবিভক্ত পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী ও বেঙ্গল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে গুরুজ্ঞানে সম্মান করতেন তিনি। আর আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর মতো এসব জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও একসময় জমিদারসুলভ হয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অগ্রসর থাকলে তিনি এগিয়ে যেতেন অখন্ড ভারতের এই অঞ্চলের প্রথম সারির নেতাদের সারিতেই।
তৎকালীন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অর্ন্তগত চাকলা রৌশনাবাদ পরগনার মেহেরপুর কুমিল্লা জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চল, বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অর্ন্তগত সরাইল উপজেলার নিভৃত পল্লী শাহবাজ, আবদুল্লাহপুর, ইসাপুর। এরই মধ্যে একটি পল্লী অঞ্চলে আবদুল জব্বার ওরফে তারু মিয়ার প্রপিতামহ আফতাবুদ্দিন এর পারিবারিক বাসস্থান ছিল। যা আজ থেকে প্রায় ২৯০ বছর পূর্বেকার কথা। পরবর্তীতে তাঁর ২য় পুত্র মুন্সি রেয়াজ উদ্দিন ভাগ্য অন্বেষনে ৪০-৪৫ মাইল দূরবর্তী আজকের শহর কুমিল্লায় পরিবার সহ আগমন করেন এবং ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের (১৯০৮-১৯৪৭) জমিদারী গ্রহণ করেন, এই অংশ পরগনা মেহেরপুর, থানা কোতয়ালী, ত্রিপুরা মৌজার বজ্রপুর, তৎকালীন গোমতী নদীর তীরে অবস্থানরত কেরণখালী, বর্তমানে প্রকাশ্যে যা মোগলটুলী-গাংচর এলাকা হিসেবে পরিচিত। মোঘল স্থাপত্য নিদর্শন ৩৬৮ বছর পূর্বে নির্মিত ঐতিহাসিক শাহসূজা মসজিদের সন্নিকটবর্তী গোমতীর তীরে পরিবার পরিজনসহ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি এবং ছোটখাট ব্যবসা বাণিজ্যর মাধ্যমে ধর্মীয় এবং সৎ জীবনযাপন করতে থাকেন। তাঁর ৪ জন ছেলে সন্তান ছিল। তার মধ্যে ৩য় সন্তান ছিলেন আবদুল জব্বার ওরফে তারু মিয়া।
জীবনের প্রারম্ভিক সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার কোন সুযোগ পাননি তারু মিয়া এবং তৎকালে অত্র এলাকাতে শিক্ষার কোন সুযোগও ছিল না। সেই প্রেক্ষিতে একাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে যা বুঝায়, তাঁর প্রথম বিবাহের দিন পর্যন্ত ওই অবস্থায়ই বিরাজ করছিল। শুধুমাত্র নিকটবর্তী শাহসূজা মসজিদের ইমাম ও আলেম ওলামাদের সন্নিকটে গিয়ে ধর্মীয় বিষয়াদী নিয়ে চর্চা ও ধর্মানুরাগী হন।
তারু মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র জহির আহাম্মেদ এর কাছ থেকে জানা, তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন সম্পর্কে যতটুকু জানতে পেরেছি, তা ওই রকম যে, বিবাহের আসরেও কাবিননামা সই করার জন্য তিনি আক্ষরিকভাবে অপারগ ছিলেন। তখনই তিনি আত্মিকসত্ত্বায় নিরক্ষতার অন্ধকার কালিমার পীড়ন অনুভব করেন। সেই অনুভূতি থেকে তিনি বাংলা ভাষায় স্ব-উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষিত লোকের দারস্থ হয়ে বাংলায় স্বাক্ষর প্রদান এবং বাংলা ভাষায় অক্ষর জ্ঞান লাভ করেন। ওই দিনকার সেই আত্ম-অভিমানী সেই তরুণ নিরক্ষতার কালীমা ভেদ করে আলোর সাথে পদচারণা শুরু করলেন। পিতার আদর্শিক পথ ধরে জহির আহাম্মেদও হয়ে উঠেন একজন মানবীক সমাজ সেবক।
প্রাচীন বৃটিশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গোমতী নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের ডুম্বুর (বা ডুমুর) হ্রদ ও জলপ্রপাত এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। সেই পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপন্ন পাহাড়ী নদী গোমতি, এর পাশেই হাজী তারু মিয়ার একদিন জন্ম হয়েছিল। সেই খরস্রোতা গোমতী নদী সেইভাবেই অনেক পাহাড়-পর্বত পাড়ি দিয়ে স্বর্গীয় গতিতে অগ্রসর হয়ে যেভাবে বৃহত্তর মেঘনাতে এসে মিলিত হয়েছে, সেভাবে হাজী মোঃ তারু মিয়া ও নিজ জীবনে ঘাত-প্রতিঘাত অন্ধকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ, নিরক্ষতার কালীমা ভেদ করে, নিজ গ্রামে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক কাজের মাধ্যমে এবং কুমিল্লার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ-শিক্ষাবিদদের সহায়তায় এসে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনপূর্বক স্থানীয় ও জাতীয় এবং সর্ব-ভারতীয় রাজনীতি ও সামাজিক জীবনে নিজেকে ছড়িয়ে দেন। যার মাধ্যমে শতাব্দীর মহীরুহ হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে যান। হাজী মোঃ তারু মিয়া শতাব্দীর এক উজ্জ্বল তারকা। ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের অধিকারী বিপ্লবী এই রাজনীতিবিদ সমাজসেবার অনন্যতায় আগামী প্রজন্মের কাছে দীপ্তিমান এক দীপশিখা। তিনি তাদেরই একজন, যিনি এই ঐতিহ্যবাহী মাটির সাংস্কৃতিক পীঠস্থান কুমিল্লার মহান একজন গুণীজন হিসেবে স্বীকৃত হয়ে রয়েছেন। ইতিহাস তাঁকে আজও স্মরণ করে। সত্যবাদিতা, ধর্মীয় সৎগুণ স্বীয় চরিত্রে সংমিশ্রণ করে এক সুমহান চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটান তিনি, যা খুব কম লোকের পক্ষেই সম্ভব। স্থান, কাল, পরিবেশ প্রাচুর্য ও বংশ মর্যাদা বাদ দিয়ে শুধু মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ আদর্শবান সিংহ পুরুষ।
তিনি প্রত্যেক মানুষকে তার নিজস্ব স্বত্ত্বা বিকাশের জন্য সর্বসময় উৎসাহিত করতেন। বিশেষ করে চেষ্টা করেছেন উৎপীড়িত ও নিপীড়িত মানুষের দুঃখ-বেদনাকে মুছে দিতে। সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবী আদায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতাকামী বিরাট এক জনগোষ্ঠীকে। যার ফলে তাঁর পদে পদে আর্থিক সংকট তো ছিলই, উল্টো স্বাধীন ভারতের জন্য কাজের পুরষ্কারস্বরূপ বৃটিশ সরকারের অত্যাচারের স্টীমরোলার তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় তখন, যখন বৃটিশ সরকার নিজ হীনস্বার্থে তুরষ্কে অবস্থিত খিলাফতকে ভেঙ্গে দেয়। তার প্রতিবাদে সোচ্চারের মাধ্যমে ওই খিলাফত আন্দোলনের ভারতীয় কংগ্রেস ও নবগঠিত মুসলিম লীগের নেতাকর্মীদের সাথে হাজী তারু মিয়ার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যাপ্তি বিস্তৃত হয়। এসবের মধ্য দিয়ে তাঁর জনসমর্থন ও নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা গড়ে উঠে। ওই সময়ে তিনি ইংরেজ শাসককর্তৃক কারাবন্দী হন।
তখনও দেশের মুক্তি পাগল শত-সহস্র জনগোষ্ঠী বন্দীশিবিরে আটক। পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনার মধ্যে কংগ্রেসের আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যা ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কুমিল্লায় কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়েছে। তৎকালীন কুমিল্লায় কংগ্রেস রাজনীতিতে যারা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেন অখিল চন্দ্র দত্ত, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, হেমপ্রভা মজুমদার, বসন্তকুমার মজুমদার, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এর মধ্যে অভিজাত পরিবারের সন্তান আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, যাকে হাজী তারু মিয়া তাঁর রাজনীতিতে গুরু হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন এবং পরাধীন জাতিকে স্বাধীনতার আলো দেখান। কংগ্রেসের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন সত্ত্বেও স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৩০ সালে কুমিল্লা পৌরসভার সি ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্ত দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে শুধু রাজনৈতিক মতান্তরের কারণে ১৯৩২ সালের মাঝামাঝি একজন স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যা মামলায় জড়িত করে তাঁকে বৃটিশ সরকার গ্রেপ্তার করেন এবং কলকাতার দমদম জেলে প্রেরণ করেন।
দুই বছর কারাদন্ড ভোগের পর আবার নিজ শহর কুমিল্লায় ফিরে আসেন। ওই সময়ে দমদম জেলে ভারতের বহুল পরিচিত রাজনীতিবিদ ড. প্রফুল্ল ঘোষ, মাওলানা আবদুল্লাহ হীল বাকী আবু হোসেন সরকার, ড. নৃপেন্দ্রনাথ বসু, বাবু বসন্ত কুমার মজুমদারসহ অনেক অবাঙ্গালী রাজনীতিবিদের সাথে তিনি রাজনীতিবিদ হিসেবে জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন করেন। দমদম জেল থেকে ফেরার পর ১৯৩৭ সালে কুমিল্লা পৌরসভায় নির্বাচিত ওয়ার্ড কমিশনার হোন এবং কুমিল্লা পৌরসভার প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস অসহযোগ আন্দোলনের জন্য তাদের সমস্ত কর্মজীবি পদত্যাগ করেন এবং তিনিও সেই সূত্রে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারত তথা পূর্ববঙ্গের সর্ব শহরেও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছে।
১৯৩৮ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত ওই আন্দোলনের দায়ে কয়েক বার গ্রেফতার হন এবং কারাদন্ড ভোগ করেন। তাঁর জীবনে বিশেষ কতগুলো রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও ঘটনা তাঁরই স্বাধীনতাকামীতা ও সাহসীকতার পরিচয় বহন করে। যেমন, চট্টগ্রামে যে অস্ত্রাগার লুণ্ঠন বিপ্লবী সূর্যসেন কর্তৃক সংগঠিত হয়েছিলো, তার দুদিন আগে ট্রেনযোগে হাজী তারু মিয়া এবং তার বেশ কিছু সহযোগী কুমিল্লা থেকে ট্রেনযোগেই চট্টগ্রামে পৌঁছেন এবং সমূহ ঘটনা অবলোকন করেন। কৌশলগত কারণে তিনি তাতে সরাসরি অংশগ্রহণ না করে ফিরে আসেন। দ্বিতীয়ত, ১৯২৫ সালে কংগ্রেসের জেলা কমিটি ও কার্যকরী কমিটির নির্বাচিত সদস্য হিসেবে সর্ব-ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জব্বেলপুরে প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। এই প্রেক্ষিতে বৃটিশ সরকার তাঁকে প্রথম কারারুদ্ধ করেন।
২য় বিশ্বযুদ্ধের ঘনঘটার সময়ে ১৯৩৯-৪০ সালে স্বস্ত্রীক (হেলেনা বেগম) কলিকাতা মহানগরে এক বিশেষ আলোচনা সভায় মিলিত হওয়ার জন্য গমন করেন। ধারণা, এই সময়ে স্ত্রীর সঙ্গে গমনের ফলে ইংরেজ গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দেওয়া ছিল মূল প্রচেষ্টামাত্র। এই সময়ে নেতাজী সুভাষ বোস বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে গৃহবন্দী ছিলেন। সেই সময়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি স্ব-শরীরে নেতাজীর সাথে তাঁর বাড়িতে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন। নেতাজী সুভাষ বোস তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেয়ার পর যখন জানতে পারেন যে হাজী তারু মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা এসেছেন, তখন কৌতুক করে বললেন, বউ নিয়ে এসেছ। তারপর নেতাজী সুভাষ বোস নিজ থেকে কিছু টাকা তাঁর হাতে দেন। এই বিষয় নিয়ে তারু মিয়া অসম্ভব আনন্দ ও গর্ব অনুভব করতেন। এ দিকে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের যখন প্রায় শেষ পর্যায়, তখনই তারু মিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব পরিস্থিতির মাঝে পবিত্র হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে জাহাজযোগে মক্কা শরীফ গমন করেন। হজ্জ পালন শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার কিছু পরেই ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হয়। তার পরবর্তীতে তিনি ধর্মীয় অনুভূতি থেকে নেজাম এ ইসলাম পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ওই অবস্থায় পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী কংগ্রেসী মনোভাবসম্পন্ন হওয়ার কারণে তাকে কারাবন্দী করেন এবং তিনি ওই অবস্থায় কুমিল্লা পৌরসভার জন্য প্রতিনিধিত্ব করেন এবং নির্বাচিত হন। সামরিক শাসন জারি (১৯৫৭ ইংরেজী) পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
তাছাড়া কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুমিল্লা নিউ মার্কেট পৌর বিপনী প্রথম স্থাপন করেন। কুমিল্লা পৌরসভা ১৯৮৬ সালে তাঁর মৃত্যুর পরে মোগলটুলির বিশিষ্ট রাস্তাটি তাঁরই নামে নামকরণ করে। এছাড়া তাঁর নামে কান্দিরপাড়, বাদুরতলায় হাজী তারু মিয়া পৌরভবন নামে একটি বিশিষ্ট মার্কেট রয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন কুমিল্লা হাইস্কুলে ‘হাজী তারু মিয়া ভবন’ নামকরণ এর মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন অত্র অঞ্চলের মানুষ। ঐতিহাসিক শাহসুজা মসজিদের গুরুত্বর্পর্ণ দায়িত্বে ছিলেন অনেক বছর।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে অবিভক্ত ভারতের কুমিল্লা অঞ্চলের রাজনীতিতে (তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা) বহু রাজনীতিবিদ কংগ্রসের হয়ে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব নেতৃত্বের নেপথ্যে রয়েছেন হাজী তারু মিয়ার মতো মহান মানুষেরাও। মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর ছিলেন ত্রিপুরার মাণিক্য রাজবংশের শেষ রাজা। তাঁকে দূরদর্শী চিন্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগর পরিকল্পনার অবদানের জন্য ‘আধুনিক ত্রিপুরার স্থপতি’ বা রূপকারও বলা হয়। ঠিক তেমনি কুমিল্লা শহরকেও যারা এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের নাম থেকে হাজী তারু মিয়ার নাম বাদ দেওয়া যাবে না।
বিপ্লবী অখিলচন্দ্র দত্তদের মতো নেতাদের নেতৃত্বকে যারা সচল রেখেছিলেন, তারা হাজী তারু মিয়ার মতো মহান মানুষেরাই। ১৯২১ সালে গান্ধীজীর ডাকে বিলেতী পণ্য বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের বাণী দ্রুত গতিতে সারা ভারতের মতো কুমিল্লায়ও ছড়িয়ে যায়। এসব কর্মকান্ডে হাজী তারু মিয়াদের মতো সেদিনের তরুণেরাই ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে-সময় কুমিল্লায় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ছিলেন অখিলচন্দ্র দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তখন বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা ও হাইকোর্টের প্রখ্যাত ব্যারিস্টার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস কুমিল্লা শহরে আসেন এবং কুমিল্লা বার-এ এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। অখিল চন্দ্র দত্ত, আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, অতীন্দ্র মোহন রায়সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এ সমাবেশে যোগদান করেন।
১৯২৩ সালে কুমিল্লায় অভয় আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সাথে যুক্ত ছিলেন অখিলচন্দ্র দত্ত, ইন্দুভূষণ দত্ত, নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত, আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, হাবীবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। ওসব আন্দোলনে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে প্রায় সর্বকাজে নিয়োজিত ছিলেন হাজী তারু মিয়া। তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল আইনসভার সদস্য, অবিভক্ত পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী ও বেঙ্গল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে সম্মান করতেন তারু মিয়া।
এসব জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও জমিদারসুলভ হয়েছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অগ্রসর থাকলে তিনি এগিয়ে যেতেন অখন্ড ভারতের এই অঞ্চলের প্রথম সারির নেতাদের সারিতেই ।
লেখক – দেলোয়ার হোসেন জাকির
সাংবাদিক, ক্রীড়া সংগঠক।