কুমিল্লার কথা : কুমিল্লা শহরের ঢুলি পাড়া ভাঙ্গা বিল্ডিং থেকে নবাববাড়ি চৌমুহনী পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা বাজার ও স্থায়ী দোকানদারদের দখলে রয়েছে। দোকানীরা রাস্তার দু’পাশে সামিয়ানা টানিয়ে সীমানা প্রাচীর বড় করে ভিতরের মালামাল বাহিরে রাখায় প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে দিনের বেলা ভারি যানবাহন প্রবেশ করায় জনভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী থিরা পুকুর পাড় চৌমুহনীতে যানজটে আটকে পড়েন। স্থানীয় একাধিক দোকানদার জানান, এমপি সাহেবের গাড়ির সামনে একটি ট্রাক এসে পড়ে এবং রাস্তার দুই পাশে অটোরিকশা থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রাস্তার দু’পাশে বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তাটি আরও সংকীর্ণ করেছে। এছাড়াও রাস্তার পাশের ড্রেনগুলো দোকানীরা দখল করে রাখায় ফুটপাত হিসেবে জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। তাদের মতে, স্কুল, কলেজ, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ইপিজেড শ্রমিকদের হাটা-চলার জন্য ড্রেনের উপর ফুটপাত চালু করলে যানজট নিরসন হতো।
থিরা পুকুর পাড় মসজিদ, মাদ্রাসা ও বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু জানান, এমপি সাহেব ও সিটি করপোরেশন থেকে ফোন পাওয়ার পর সকল দোকানদারকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিটি করপোরেশনের নির্দেশনামূলক ফেস্টুন লাগানো হবে এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে যারা রাস্তার উপর মালামাল রাখে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যেই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে রাস্তার উপর কোনো ভাসমান দোকান বসানো যাবে না, স্থায়ী দোকানীরা সাটারের বাইরে মালামাল বা আবর্জনা রাখতে পারবেন না, সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ভারি যানবাহন প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং নির্মাণ সামগ্রীবাহী গাড়ি শুধুমাত্র রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবে তবে রাস্তার উপর কোনো মালামাল রাখা যাবে না।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী রাস্তা বা ফুটপাত দখল করা আইনত অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সিটি করপোরেশন চাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে এবং দখলদারকে উচ্ছেদ করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ আদায়েরও ক্ষমতা রাখে। নগরবাসী আশা করছে, সিটি করপোরেশনের কঠোর নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে যানজট কমবে এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে।